Castaway on The Moon ছবির নায়ক Kim Seong-geun হ্যান রিভারের মধ্যখানে একটা দ্বীপে আঁটকে পড়েন। উদ্দেশ্য ছিলো নদীর উপর ব্রিজ থেকে লাফিয়ে পড়ে আত্মহত্যা – কেননা প্রচুর ঋণের দায়ে জীবন অর্থহীন হয়ে উঠেছে তার কাছে, কোনো আশা নেই। তবে মরতে চাইলেই তো আর মরা যায় না, আত্মহত্যার বদলে কিম তাই ঠাঁই পেলেন গাছগাছালিতে ঘেরা ব্রিজের ঠিক নিচের দ্বীপটাতে।

 

খাদ্য নেই, আশ্রয় নেই, সঙ্গী নেই – এমন এক উৎকট যন্ত্রণার মধ্যে আরো কয়েকবার আত্মহত্যা করতে গিয়ে ব্যর্থ হলেন – কখনো সাহসের অভাবে, কখনোবা পরিস্থিতির প্রতিকূলতায়। যাহোক, কিম ধীরে ধীরে অভ্যস্ত হয়ে উঠতে থাকলেন দ্বীপটার সাথে, এবং আবিষ্কার করলেন বেঁচে থাকার জন্য তার মানিব্যাগে থাকা ক্রেডিট কার্ডগুলোর আদতেই কোনো মূল্য নেই। তার ঘর বলতে এখন হাঁস-আকৃতির পরিত্যাক্ত এক প্যাডেল-বোট, খাদ্য বলতে নদীর মাছ আর পাখি, সঙ্গী বলতে চারপাশের প্রকৃতি। উপকূলের বালিতে যেখানে প্রথমে তিনি লিখে রেখেছিলেন HELP , তা মুছে এবার লিখলেন হ্যালো (HELLO).

 

এদিকে Jung-yeon নামের একটি মেয়ে – যে সমাজ থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে দ্বীপ থেকে দূরের বহুতলের ছোট্ট এক ঘরে, আর সময় কাটাচ্ছে অনলাইনের ভার্চুয়াল জগতে এবং মাঝে মাঝে চাঁদের ছবি তুলে, সে মেয়েটি একদিন ছবি তুলতে গিয়ে ক্যামেরায় দেখে ফেলে কিম-এর এই অদ্ভুত জীবনযাপন। প্রথমে আতঙ্কিত হয়ে উঠলেও পরবর্তীতে দিনের পর দিন জানালায় চোখ রেখে দেখতে থাকে কিমের দুঃখ, যন্ত্রণা, সংগ্রাম, হাসি, আনন্দমুখর কর্মকান্ড। ছবি তুলে সেগুলো দেয়ালে সেটে রাখে মেয়েটা এবং একসময় কিমের সাথে যোগাযোগের তাড়না অনুভব করে।

 

সেই অনুভূতি থেকেই সে পা বাড়ায় বাইরের পৃথিবীতে। মনের ভেতর নতুন আলো জ্বলে ওঠে বলেই সে হয়ে ওঠে বেপরোয়া। ছেদ পড়ে তার দৈনন্দিন কাজে। তার রুটিন হয়ে দাঁড়ায় ক্যামেরার পেছনে থেকে সারাদিন কিমকে দেখে যাওয়া।

 

এদিকে একইরকম খাবার খেতে খেতে বিরক্ত কিম একদিন দ্বীপে কুড়িয়ে পায় একটি ব্ল্যাক-বিন-নুডুলস এর প্যাকেট আর তারপর সে প্যাকেটের ছবির দিকে তাকিয়ে থাকে সারাদিন। এই নুডুলস এর প্যাকেটটা তাকে একটা লক্ষ্যের সামনে দাঁড় করায় – সে উপায় খুঁজতে থাকে কিভাবে এই দ্বীপে সে নিজেই নুডুলস তৈরি করবে।

 

মেয়েটি এরই মধ্যে একটি বোতলে হ্যালো (HELLO) লিখে রাতের আঁধারে ছুড়ে দিয়ে এসেছে ব্রিজ থেকে নিচের দ্বীপে। দিন যায়, কিন্তু ক্যামেরায় চোখ রেখে কোনো উত্তর পায় না সে। অবশেষে তিন মাস সতের দিন পর মেয়েটা প্রত্যুত্তোর পায়। কিম বোতলটা পেয়ে বালিতে লিখে রাখে ‘HOW ARE YOU’।

 

এভাবে শুরু হয় যোগাযোগ, মেয়েটা রাতের অন্ধকারে সিকিউরিটি গার্ডকে বোকা বানিয়ে হ্যান নদীর উপর ব্রিজে গিয়ে দাঁড়ায় আর বোতলে চিরকুট ভরে ছুড়ে দেয় নিচের দ্বীপে। হয়তো পরদিন কিংবা আরো কিছুদিন পর সেদিকে হাঁটতে গিয়ে কিম খুঁজে পায় সে চিরকুট ভরা বোতল। দেখা হয় না – অথচ চিরকূটের এক লাইনের চিঠি তাদের মধ্যে তৈরি করে যোগাযোগ। উত্তরের জন্য অপেক্ষা। একই সাথে চলে কিমের নুডুলস তৈরির সংগ্রাম। সে পাখির বিষ্ঠা থেকে শস্য- বিজ খুঁজে নিয়ে ক্ষেতে বপন করে, পরিচর্যা করে আর আশায় থাকে।

 

মেয়েটা ক্যামেরায় তার এই ব্ল্যাক-বিন-নুডুলস তৈরির আগ্রহ দেখে এক ডেলিভারি বয়কে দিয়ে দ্বীপের মধ্যে নুডুলস পাঠায় কিন্তু কিম তা প্রত্যাখ্যান করে এই বলে যে, এই নুডুলস তৈরিটা তার কাছে একটা আশা (HOPE) । মেয়েটা ভুল বুঝতে পেরে কিমকে লিখে পাঠায় ‘SORRY’।

 

তারপর একদিন কিম লক্ষ্য করে তার ক্ষেতে নুডুলস তৈরির কর্ণ পরিপক্ক হয়েছে। সে আনন্দে আত্মহারা হয়ে যায়। কর্ণ ছেটে গুড়ো করে রুটির মতো করে বেলে নেয়, সেটাকে লম্বা করে কেটে তৈরি করে নুডুলস। অতঃপর রান্না করে পাত্রে সাজিয়ে যখন সে মুখে তোলে, তার চোখে জল এসে যায়, ডুকরে কেদে ওঠে কিম। জানালায় ক্যামেরা হাতে সে দৃশ্য বন্দী করে রাখে মেয়েটা।

 

একদিন মেয়েটির চিরকূট-বোতলগুলোর দিকে আনমনে তাকিয়ে থাকতে থাকতে কিম তার নষ্ট-হয়ে-যাওয়া মোবাইল সেটটা কানে নিয়ে কথা বলার অভিনয় করে … মেয়েটির উদ্দেশ্যে বলে –

 

‘ I HOPE TO SEE YOU ’

 

এইখানে এসে Castaway on The Moon মুভিটা আসলে একটা কবিতা হয়ে যায়। দুজন আইসোলেটেড হিউম্যান বিং পরস্পরের মনে স্থান পেয়ে যে একাত্মতা বোধ করে এবং আশা করে যে তাদের দেখা হবে – এই অনুভূতি নিয়ে অপেক্ষা করে থাকে – এটা অতুলনীয়।

 

এই ভালোবাসা, বুকের মধ্যে এই চিনচিনে কাঁপাকাঁপা অনুভূতি, দূরত্ব, অপেক্ষা – এইসব অতুলনীয়।

 

তাদের এই আশা কিভাবে পূর্ণ হয় কিংবা আদৌ পূর্ণ হয় কিনা তা জানতে দেখতেই হবে Cast Away on The Moon। Lee Hae-jun এর দুর্দান্ত রোম্যান্টিক কমেডি।

 

ছবিটা প্রথম দেখেছিলাম সেই ইউনিভার্সিটি লাইফে। আজ আবার দেখছি, আর দেখতে দেখতে I HOPE TO SEE YOU – ডায়ালগে এসে থেমে গেছি হঠাৎ …

 

কেন থেমে গেছি কে জানে ….

 

Leave a Reply