সবাইকে বিদায় দিয়ে যখন বাসায় ফিরলাম। আম্মু বলল, কতো ভালো লাগল, যেন একটা পার্টি হয়ে গেল বাসায়। আমি বললাম, হ্যাঁ, সবাই মিলে হইহুল্লোড় করতে কতো আনন্দ লাগে তাইনা!

 

আমি ভাগ্যবান যে অসাধারণ বাবা-মা পেয়েছি। তাদের মুখে হাসি দেখতে পেলে যে আনন্দ আমি পাই, সেটা আর কোনো কিছুতে পাই না। আজ আমার অফিসের কলিগেরা বাসায় আসাতে তাদের সেই হাসিমুখ অনুভূতি হয়েছে।

 

আমার কর্মক্ষেত্র ডেইলি স্টারে আমি পেয়েছি কিছু দুর্দান্ত কলিগ। ডেইলি স্টারের এই বস-কলিগ, কলিগ-কলিগ রিলেশনশিপ অতুলনীয়। সবাই সবার সাথে খুব আন্তরিকতা নিয়ে মেশে, এই ব্যাপারটা আমার কাছে অত্যন্ত ইউনিক লাগে। কর্মক্ষেত্রে – যেখানে মানুষ তার সবচেয়ে মূল্যবান সময়টা কাটায় – সেখানে আন্তরিক কিছু মানুষের সাথে কাজ করতে পারাটা নিঃসন্দেহে আনন্দের।

 

অফিসে আমরা দশ-বারো জন মতো মোটামুটি একই সময়ে এক টেবিলে লাঞ্চ করি। এতে করে আমাদের মধ্যে খুব চমৎকার বোঝাপড়া হয়ে গেছে। টের পাই, আমরা সবাই সবাইকে যথেষ্ট পরিমাণ শ্রদ্ধা করি, ভালোবাসি। তো আমার এই কলিগদের হুট করে বললাম, চলেন আজকে আমার বাসা থেকে ঘুরে আসি।

 

রিতা আপা, আইরিন আপা, আর আসিফ ভাই তখনই রাজি হয়ে গেলেন। মাহমুদ ভাই, আর সঞ্জয় দা জরুরী কাজ থাকায় যেতে পারলেন না শেষমেশ। বীথিকা দি বললেন, আরে আপনার বাসায় যেতে হবে এটা কেন আগে বললেন না, আজকে আমার ৫ টা পর্যন্ত অফিস।

 

যাহোক, তিন কলিগসহ বাসায় এলাম। রিতা আপা বললেন, রানা ভাই কোথায় উনাকেও ডাকেন। আমি রানা ভাইকে ফোন দিলাম। রানা ভাই তখন বাংলামোটর তার অফিসে। বললেন, ঠিকাছে আমিও আসতেছি।

 

এদিকে আমরা হাল্কা নাস্তা করে ছাদে গেলাম ফটোসেশন সারতে। তারপর একসময় রাস্তায় রাস্তায় টই টই এদিক সেদিক। জোড়াদিঘীর পাড়ে বসে থাকা। সবুজের ভেতর হাটাহাটি। বেগম বাজার থেকে ফুচকা খাওয়া। সন্ধ্যা নেমে এলো একসময়। এদিকে রানা ভাইও চলে এলেন সন্ধার কিছু পরে।

বাসার ছাদে সেলফিবাজি

 

রানা ভাই এর আগেও একবার আমার আরেক কলিগ জিয়া ভাইকে নিয়ে এসেছিলেন। সেবারও অনুরোধের আসর জমে উঠেছিল গানে আর কবিতায়। এবারেও তার ব্যতিক্রম হলো না।

 

রাতের খাওয়া শেষে শুরু হলো গান। গান শুরু হতেই আম্মুও তার লাজুক হাসি নিয়ে যোগ দিলেন আমাদের সাথে। আমি তার কোলে শুয়ে গানের সাথে গলা মেলালাম। আমার ছোট বোন তানিয়া কিছুটা ভিডিও করে নিল সে মুহুর্ত।

 

আইরিন আপাও গান গাইলেন। উনার গলায় হিন্দি গান খুব চমৎকার মানায়। এরই মধ্যে এটা ওটা রসিকতায় সবার হাসিমুখ। এসব অনন্য অনুভূতি। ছোটভাই মাহফুজও খুব উপভোগ করল এই আনন্দের আসর।

 

শেষে সবাই মিলে গ্রুপ ফটোসেশান।

 

এইসব দিন আনন্দের।
সবাই হাসিমুখে থাক চিরদিন।

 

ফুটপাতে আসিফ ভাই, রিতা আপা, ও আইরিন আপা

 

সঙ্গীতানুষ্ঠান চলছে

 

 

 

Leave a Reply