ফোর্ট কোচিতে সান্তা মারিয়া হোস্টেলের যে রুমে আমি উঠেছি, সেখানে আলাপ হলো ইংল্যান্ডের এক ট্যুরিস্টের সাথে। কথা বলতে বলতে একসময় জানলাম ওর বাবা-মা প্যারিসে স্যাটেলড। ছেলেটা বায়োলজিস্ট। পড়ালেখা শেষ হয়েছে, তাই ও বিদেশ ভ্রমণে বের হয়েছে। ৬ মাস ভ্রমণ করে তারপর ইংল্যান্ডে গিয়ে জবে ঢুকবে। ওর ইচ্ছা টাকা জমিয়ে আবার ওয়ার্ল্ড ট্যুরে বেরিয়ে পড়া।

 

এদের দেখলে মনে হয়, ঘোরাঘুরিতে বা দেশভ্রমণের ক্ষেত্রে আমরা বাংলাদেশিরা অনেক পিছিয়ে। কারণ আমাদের যাদের নুন আনতে পানতা ফুরোয়, তাদের ক্ষেত্রে ঘোরাঘুরির চিন্তাটা একপ্রকার বাড়াবাড়ি। আবার যাদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা আছে, তাদের হয়তো ঘোরাঘুরি করার মন নেই। যাই হোক না কেন, বাংলাদেশিদের ভ্রমণের শখ বা এর মাধ্যমে  পৃথিবীকে জানার আগ্রহ নেই। তবে হ্যাঁ, বর্তমানে বাংলাদেশিরা যেটুকু ঘোরাঘুরি করছে, ফেসবুক কিংবা ইন্সটাগ্রামে সেলফি দেওয়ার অপশন না থাকলে সেটুকুও থাকতো না। চেকইন-সর্বস্ব এই ভ্রমণের তেমন একটা গুরুত্ব আছে বলে মনে হয় না।

 

নিজের দেশের মানুষের নিন্দা না করে এবার বরং আসল কথায় আসি। ফোর্ট কোচিতে একটা দিন কাটাবার পর, আমার ইচ্ছা ছিল এর পাশের এরনাকুলাম শহরে একদিন থাকার, কারণ সেখানে অনেকগুলো পর্যটন স্পট আছে। এসব নিয়েই কথা হচ্ছিল বৃটিশ ওই ছেলেটার সাথে। ও বলল যে পরদিন মুন্নার যাওয়ার ইচ্ছা আছে ওর। তাছাড়া ফোর্ট কোচির গরম থেকে সে কদিনের জন্য নিস্তার চায়। এদিকে ৪ মাস ভ্রমণের ফলে টাকাও শেষের পথে। তাই দ্রুত ইংল্যান্ডে ফিরে গিয়ে জব সার্চ করবে, তারপর আবার টাকা জমিয়ে দেশভ্রমণে বেরিয়ে পড়বে।

 

মুন্নার যাওয়ার কথা শুনে আমি বেশ উৎসাহ পেলাম। আমার চেকলিস্টে মুন্নার আছে। ভাবলাম, তাহলে এর সাথেই যাওয়া যাক। কথায় কথায় ছেলেটাকে আর ওদের কালচার, জীবনযাপন সম্পর্কে আরও কিছু আইডিয়া পাওয়া যাবে। পরদিন সকালে ওকে বললাম যে আমিও মুন্নার যাব, সুতরাং ও বের হওয়ার সময় যেন আমাকে জানায়।

 

আমরা একসাথে বের হলাম। ফোর্ট কোচি থেকে ফেরিতে করে প্রথমে নামলাম এরনাকুলামে। ফেরিতে করে যেতে যেতেই আবারো দেখলাম ডলফিনের ডুবসাতার। তবে আমার ধারণা অচিরেই এই পানিতে আর ডলফিন আসবে না। কারণ নানা রকম আবর্জনা পানিতে ভাসছে। এখনই যদি ফোর্ট কোচির মানুষ সচেতন না হয়, তাহলে এ জায়গাটা তার সৌন্দর্য হারাবে অল্প কিছুদিনেই । এসব নানাবিধ বিষয় নিয়ে কথা বলতে বলতে এরনাকুলাম পৌছালাম। ফোর্ট কোচি থেকে এরনাকুলাম ফেরিতে আসতে ১৫ মিনিট সময় লাগে, খরচ হয় ৬ রুপি।

 

আমাকে এই লম্বুর পাশে ঠিক লিলিপুটের মতো লাগছে

 

এরনাকুলাম নেমে গুগল ম্যাপে দেখে নিলাম স্টেট-বাসস্ট্যান্ডটার দূরত্ব। অল্প দূরে হওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম আমরা হেঁটে হেঁটে যাবো। এক ফাঁকে ওকে বললাম, লেটস টেক এ ফটো ফর মেমরি। তারপর একটা ফাস্ট ফুডের দোকানে নাস্তা করে হেঁটে হেঁটে বাসস্ট্যান্ডে পৌছালাম। মুন্নারের বাস ছাড়ল বেলা ১২টার দিকে। বাস মুন্নার পৌঁছাতে পৌঁছাতে বিকেল হয়ে  গেল। বৃটিশ ছেলেটা বসেছে বাসের একেবারে সামনের সিটে। কারণ মাঝের সিটগুলোতে ওর পা এডজাস্ট হয় না। সুতরাং পথে ওর সাথে আর তেমন কথা হলো না।

 

 

২. মুন্নার (Munnar) 

 

আঁকাবাঁকা পথ বেয়ে চা-বাগানের মধ্যদিয়ে যখন বাস এগিয়ে চলছে তখন বিকেল হয়ে এসেছে। মুন্নার যেতে আর মাত্র ৫-১০ মিনিট বাকি। এমন সময় হুট করে জানালা দিয়ে তাকিয়ে দেখি, ছেলেটা বাইরে দাঁড়িয়ে আমাকে বলছে ‘গুডবাই’। আমি তো হতবাক। কখন নামলো টেরই পেলাম না। একবার জানালোও না যে নেমে যাচ্ছে। একসাথে বন্ধুর মতো গল্প করলাম এই দুইদিন। নামার আগে এটলিস্ট ফরমালি বিদায় নিয়ে নামতে তো পারতো ! ভেবেছিলাম একসাথেই যেহেতু মুন্নার যাচ্ছি, যে দুই-একদিন মুন্নারে থাকব একসাথে ঘোরাঘুরি করা যাবে।  কিন্তু তা আর হলো কই!

 

আমিও একটা ভিউপয়েন্ট দেখে বাস থেকে নামলাম। কিছুক্ষণ উঁচু একটা জায়গাতে বসে থেকে সামনের পাহাড় আর চা-বাগান দেখলাম। তারপর আবার আরেকটা বাসে উঠে মুন্নার শহরে এলাম। এখানে এসে ছোট্ট শহরটা একটুখানি ঘুরে একটা হোটেল রুম ভাড়া নিলাম দুই রাতের জন্য। ৮০০ রুপি পার নাইট। ডাবলবেড রুম, ছোট্ট একটা বারান্দা আছে এটাচড, যেখান থেকে শহরের একটা ভিউ পাওয়া যায়। হোটেলে উঠে ফ্রেশ হয়ে বের হলাম এলাকাটা ঘুরে দেখতে। রাতের শহর সবসময়ই সুন্দর।

 

মুন্নারের আবহাওয়া খুব চমৎকার। ২০ ডিগ্রির আশেপাশে। খুব ছোট্ট শহর কিন্তু বেশ পরিপাটি। প্রচুর পরিমানে চকোলেট, চা আর মশলার দোকান। আমি একটা দোকান থেকে অল্প চা-পাতা কিনলাম বাসার জন্য।

 

সারাদিন তেমন কিছু খাওয়া হয়নি, তাই ঝটপট একটা হোটেলে ঢুকে পড়লাম। চিকেন বিরিয়ানি ওর্ডার দিয়ে বসে আছি। ওয়েটার এসে কথার ফাঁকে জিজ্ঞেস করলো আমি কোথা থেকে এসেছি। বাংলাদেশি শুনে তার সে কি আনন্দ। সে কলকাতা থেকে মুন্নারে এসে কাজ করছে, নাম নোমান। সে সবসময় বাংলাদেশের গান শোনে। কয়েকটা ব্যান্ডের নামও বলে গেল চটপট করে। আমি অবাক হলাম, জীবিকার তাগিয়ে সেই কলকাতা থেকে এতটা দূরে এসে তাকে থাকতে হচ্ছে। খাওয়া দাওয়া শেষ করার পর ছেলেটা আমাকে একটা ম্যাপ দিলো, আর বলে দিলো যে চাইলে আমি বাসে করেই বিভিন্ন স্পট ঘুরে দেখতে পারি। আমি তাকে ধন্যবাদ দিলাম এভাবে আমাকে গাইড করার জন্য।

 

পরদিন সকাল সকাল বের হলাম। বাসস্ট্যান্ডে যেয়ে শুনলাম ন’টায় একটা বাস আছে। তারপর আর কি! বাসে উঠে ঘোরাঘুরি শুরু। যে যে জায়গাতে গেলাম সেগুলো হলো –

মাডুপেট্টি ড্যাম

কুন্দালা লেক

ইকো পয়েন্ট

বোট্যানিক্যাল গার্ডেন

 

মাডুপেট্টি ড্যাম (Madupetty Dam) 

 

মুন্নার শহর থেকে মাডুপেট্টি ড্যামের দূরত্ব ১৩ কিলোমিটার। বাস থেকে নেমে লেকের পাশ ধরে হাঁটছি। দেখলাম একটা সরু পথ চলে গেছে ড্যামের পেছন দিয়ে। জঙ্গলমতো সেই পথ ধরে হাঁটা শুরু করলাম। আমি ছাড়া এ দিকটায় দ্বিতীয় কোনো মানুষ নেই। পাখির ডাক আর গাছের পাতায় বাতাসের শব্দ ছাড়া আর কিছু শোনা যাচ্ছে না। বেশ কিছুটা পথ হেঁটে, একটা উঁচু রাস্তা পার হতেই দেখি সামনে বিশাল চা-বাগান সকালের আলোয় ঝলমল করছে। মন ভরে গেল এই পাহাড়ি চা-বাগান দেখে। সামনের পথ ধরে আরও এগিয়ে চললাম। চারপাশে পাহাড়জুড়ে চা-বাগান। অল্প কয়েকজন চা-শ্রমিক পাতা সংগ্রহ করছে। অপরূপ সে দৃশ্য। বেশ অনেকটা সময় কাটালাম এখানে লেকের ধারে বসে ও চা-বাগানে হেঁটে হেঁটে।

 

মাডুপেট্টি ড্যাম, মুন্নার

 

 

কুন্দালা লেক (Kundala Lake)

 

মাডুপেট্টি ড্যাম থেকে ইকো পয়েন্টের দূরত্ব ২ কিলোমিটার। বাস না পেয়ে পাহাড়ি পথে হাঁটা ধরেছি। একসময় আবিষ্কার করলাম, পাহাড়ি এই রাস্তায় হেঁটে চলা একমাত্র নরাধম আমি। আর কেউ হাঁটছে না। হয় প্রাইভেট কার, নাহয় বাইকে করে যাচ্ছে সবাই। আমি অবশ্য পারতাম একটা বাইক ভাড়া নিতে, কিন্তু পাহাড়ি রাস্তায় বাইক চালানোর অভিজ্ঞতা না থাকায় সেই রিস্ক আর নেই নি। একা একা হাঁটছি। প্রায় ইকো-পয়েন্টের কাছাকাছি চলে এসেছি এমন সময় দেখি একটা বাস আসছে পেছন থেকে। আমি হাত বাড়ালে বাস থামলো। উঠে বসলাম, ভাবলাম ইকো-পয়েন্ট আসার পথে দেখা যাবে আগে কুন্দালা লেকটা দেখে আসি। কুন্দালা লেক মাডুপেট্টি ড্যাম থেকে প্রায় ১১ কিলোমিটার দূরে।

 

বাসে উঠতেই এক বয়স্ক লোক হাত ইশারায় তার পাশে বসতে বললেন। আমি সরল মনে বসলাম। এবার তিনি তার ভাষায় টুকটাক কথা বলতে থাকলেন যার বিন্দুবিসর্গও আমি বুঝলাম না। আমি ইংরেজিতে এবং ইশারায় তাকে বোঝানোর চেষ্টা করলাম। তিনি এবার ইংরেজি বলা শুরু করলেন। তার নিজের ভাষার বাক্যের মাঝে তিনটা ইংরেজি শব্দ – ওল্ড ম্যান, টি, টুয়েন্টি রুপি। প্রথমে কিছু বুঝিনি। পরে বুঝলাম তিনি চা খাওয়ার জন্য আমার কাছে ২০ রুপি চাচ্ছেন। আমি নো-মানি, নো-মানি বলে বুঝালাম যে কাজ হবে না। তিনি এবার টেন রুপিতে নেমে আসলেন। আমি এইসময় মজার একটা কাজ করলাম। তার পাশ থেকে উঠে গিয়ে আরেকটা সিটে জানালার ধারে গিয়ে বসলাম। হা হা হা।

 

বাস থেকে নামলাম কুন্দালা লেকে। আমার পেছন পেছন আরও একজন মধ্যবয়সি বিদেশি নামলেন। তার নাম ডায়ানা। জার্মানি থেকে এসেছেন আয়ুর্বেদিক ট্রিটমেন্ট নিতে। কয়েকদিনের মধ্যেই আবার দেশে ফিরে যাবেন। তাই ঘুরতে এসেছেন এখানে। আমি তাকে বললাম যে আমি বাংলাদেশ থেকে এসেছি। বললাম যে আমার এক বন্ধু আছে জার্মানির হামবুর্গ শহরে পড়ছে। সে খুব উৎসাহে জানালো যে হামবুর্গ নাকি খুব চমৎকার শহর। আমার অবশ্যই সেখানে ঘুরতে যাওয়া উচিত।

 

ভদ্রমহিলা বেশিক্ষণ দাঁড়ালেন না। মাত্র মিনিট পাঁচেক থেকেই অমনি দৌড় দিলেন বাস ধরতে। আমি লেকের দিকে যেদিকটায় বোট ভাড়া দেয়া হয় ওখানে গেলাম। আমি একা হওয়াতে ক্যানো(Canoe) ভাড়া নিতে বেশ বেগ পেতে হলো। কমপক্ষে দু’জন দরকার। অনেকক্ষণ অপেক্ষা করেও কোনো লোক না পাওয়ায় অগত্যা ওদের একজন লোকই আমার সাথে গেল। ৪০ মিনিট রাইড ৩০০ রুপি। যাহোক, পানিতে নৌকা চালানোর মজা অর্ধেক কমে যায় যখন লাইফ জ্যাকেট গায়ে জড়ানো হয়। মনে হয়ে ঘাড়ের উপর আরেকজন বসে আছে। কিন্তু কি আর করা, বিধিনিষেধ না মেনে তো আর উপায় নেই।

 

কুন্দালা লেকটার চারপাশ ঘন জঙ্গলে ভরা। আর এই জঙ্গলে নানারকম পশু পাখি রয়েছে। ভোরের দিকে হাতি, হরিণ, বন্য ছাগলসহ বিভিন্ন পশু লেকের পানি পান করতে আসে। প্রায় ৯০ ফুট গভীর এই লেক নানারকম পাখিরও আশ্রয়স্থল। ক্যানোতে বৈঠা বাইতে বাইতে এসব নিয়ে কথা বলছিলো আমার সাথের বোটম্যান। অফসিজন হওয়াতে লোক অনেক কম, তাই পরিবেশটা খুব দারুণ লাগলো।

 

কুন্দালা লেক, মুন্নার

 

 

ইকো পয়েন্ট (Echo-Point) 

 

কুন্দালা লেক থেকে বেরিয়ে কোনো বাস না পেয়ে  হাঁটা শুরু করেছি পাহাড়ি পথে। আঁকাবাঁকা পথ, উঁচুনিচু। একপাশে পাহাড় আর আরেকপাশে চা-বাগান। হাঁটছি, কখনো দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে পাহাড় দেখছি, চা-বাগান দেখছি। এভাবে প্রায় ৮ কিলোমিটার হেঁটে একসময় এসে থামলাম ইকো-পয়েন্ট নামক জায়গায়। এ জায়গাটাকেও একটা লেক বলা যায়। এখানে দাঁড়িয়ে জোরে শব্দ করলে তা প্রতিধ্বনিত হয়ে ফিরে আসে। তাই এর নাম ইকো-পয়েন্ট।

 

এখানে দেখলাম সবাই সামনের লেক আর পাহাড়ের দিকে মুখ করে চিৎকার করছে প্রতিধ্বনি শোনার জন্য। আমিও একটা চিৎকার দিলাম কিন্তু প্রতিধ্বনি আসলো কিনা বুঝতে পারলাম না! যাহোক, খুব পিপাসা লাগায় ডাবের পানি খেয়ে নিলাম ৫০ রুপি দিয়ে। তারপর একটা প্রাইভেট কার পেয়ে তাতে চড়ে আসলাম  কারমেলগিরি বোট্যানিক্যাল গার্ডেনে। এখানে নানারকম ক্যাকটাসের সংগ্রহ আছে।

ইকো পয়েন্ট, মুন্নার

 

 

বোট্যানিক্যাল গার্ডেন (Carmelgiri Botanical Garden) 

 

বোট্যানিক্যাল গার্ডেনে ঢুকতেই শুরু হলো ঝুম বৃষ্টি। ব্যাস আটকা পড়লাম সেখানে। ঘুরে ঘুরে ক্যাকটাস দেখছি আর বৃষ্টির শব্দ শুনছি। বেশ ভালোই লাগলো। পাহাড়ে মেঘ বৃষ্টি এক তন্ময়তা নিয়ে আসে।

 

কারমেলগিরি বোট্যানিক্যাল গার্ডেন আকারে ছোটো হলেই খুব পরিপাটি। গাছগুলো খুব যত্ন নিয়ে পরিচর্যা করা। অদ্ভুত রকম অনেক ক্যাকটাস দেখলাম যেগুলো আগে কখনো দেখিনি। এছাড়া ওখানকার ছোটো ছোটো কমলালেবু গাছে ঝুলে আছে পাকা পাকা কমলা। বেশ লোভনীয়, যদিও হাত দিতে মানা।

 

লোভ সামলে নিয়ে, এখানকার একটা রেস্টুরেন্টে ঢুকে দুপুরের খাবার খেলাম। তারপর একটা টেম্পুরিক্সা করে ফিরে এলাম হোটেলে।

 

বোট্যানিক্যাল গার্ডেনের গাছে কমলা ঝুলে আছে

 

 

মুন্নার আমার কাছে খুব সুন্দর লেগেছে। যদিও দু’একটা খুব কমন জায়গাতে যাইনি সময় কম থাকার কারণে। তবু যতটুকু দেখলাম, মুন্নার আমাকে মুগ্ধ করেছে। পাহাড়ের পর পাহাড় জুড়ে অপরূপ চা-বাগান। একবার অবশ্য এটাকে নিষ্ঠুরতাও মনে হচ্ছিল। কারণ প্রাকৃতিক পরিবেশ ধ্বংস করে, গাছ কেটে সেটাকে চা-বাগানে পরিণত করার মধ্যে মানুষের আগ্রাসী মনোভাবটাই বেশি প্রকট। তারপরও মুন্নার তার রূপে রঙে অনন্য। আশাকরি, আবার কখনো দেখা হবে এই রূপসীর সঙ্গে।

 

মুন্নার যাওয়ার পথে
এখানটায় বাস থেকে নেমে বেশ কিছুক্ষণ বসে ছিলাম

 

 

মুন্নারের একটি ফুলের দোকান

 

 

মাডুপেট্টি ড্যামের পেছনের দিকের এলাকা

 

 

এমন চা-বাগান আছে রাস্তার দুই ধার জুড়ে

 

 

চোখ ভরে যায় সবুজে

 

 

মুন্নারের প্রকৃতি

 

 

কুন্দালা লেকে বোটিং

 

 

নয়নাভিরাম কুন্দালা লেক
ইকো-পয়েন্ট

 

 

বোট্যানিক্যাল গার্ডেনের ক্যাকটাস

 

 

মুন্নারের হোটেল রুম

 

Leave a Reply