মধ্যরাতে নস্টালজিক হবার কোনো মানে হয় না। কিন্তু উপায় কি? ঘুম আসছে না। ল্যাপটপ খুলে অনেকটা আনমনেই বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের ছবিগুলো দেখতে শুরু করলাম। শ্যামল যেমন বলেছেন– সময়ের দূরত্বে সাধারণ কথাই রূপকথা হয়ে যায়, তেমনি এখন পেছন ফিরে দেখে বিশ্ববিদ্যালয়ের সময়টাকে রূপকথাই মনে হচ্ছে।

 

আমি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে পড়েছি। ক্লাস শুরু হয়েছিল খুব সম্ভবত ২০১১ সালের জানুয়ারি মাসের ১০ তারিখ। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম দিনে পরিচয় হয়েছিল সৈকতের সাথে। সে হিসেবে সৈকত আমার বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের প্রথম বন্ধু।

 

আমি তখন বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকা বিনোদপুরের ‘সখিনা ভিলা’ নামক একটা মেসে থাকি। আমার রুমে আরেকজন ভাই থাকতেন মাস্টার্সের। খুব সম্ভবত তার নাম মারুফ। উনি প্রতিদিন বিকেলে খুব টিপটপ হয়ে মাঞ্জা মেরে ক্যাম্পাসে যেতেন তার বান্ধবীর সাথে দেখা করতে; আর ফিরতেন রাতে। রুমে খুব একটা থাকতেন না। বাইরে বাইরেই সময় কাটাতেন বেশি।

 

ভার্সিটির শুরুর দিকে সবকিছুতে একটা এক্সাইটমেন্ট থাকে। নতুন ক্যাম্পাস, নতুন বন্ধুবান্ধব, নতুন পরিবেশ সব মিলিয়ে অন্যরকম একটা অনুভূতি। আমাদের ক্লাস হতো শহীদুল্লাহ কলা ভবনের নিচতলায়। সামনেই বিশাল আমবাগান। আমরা দুই ক্লাসের মধ্যবিরতিতে ক্লাসের সামনের এই আমতলায় দিতাম। এখানে সুমনের দোকান খুব বিখ্যাত। সবাই সুমনের মেক-শিফট দোকানের চারপাশে বেঞ্চে বসে আড্ডা দিত, চা-বিড়ি-সিগারেট খেত। কেউ গিটার বাজিয়ে গান গাইত, কেউবা কাঠের বেঞ্চে হাত দিয়ে তাল দিত। যদিও আমরা যে ক’জন খুব ক্লোজফ্রেন্ড ছিলাম, সুমনের দোকান আমাদের অতটা পছন্দের যায়গা ছিল না। তার একটা কারণ ছিল এই যে, ওখানে প্রচুর মেয়েদের ভিড় থাকতো, আর আমরা ঠিক অতোটা মেয়েঘেষা ছিলাম না। পারতপক্ষে মেয়েদের তেমন একটা পাত্তা দিতাম না। তারচেয়ে দলবেঁধে ক্যাম্পাসের ভেতর ঘুরে বেড়াতাম। টুকিটাকি চত্তরে বসে ছোলা-খিচুড়ি খেতাম, কিংবা হাঁটতে হাঁটতে রেললাইন বা কৃষি অনুষদের দিকে চলে যেতাম।

 

আমি, সৈকত, উল্লাস, নসিব, প্লাবন, মাসুম, জাহাঙ্গীর, চঞ্চল, ইশতিয়াক, রাজু, সবুজ – আমরা মোটামুটি একসাথেই থাকতাম। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম দু’বছর আমাদের মধ্যে বন্ধুত্ব অটুট ছিল। পরবর্তীতে আস্তে আস্তে দলটা ছোট হয়ে আসে।

 

আমাদের মধ্যে দুষ্টুবুদ্ধিতে সেরা ছিলো উল্লাস। উল্লাসের সাথে তাই আমার জমতো ভালো। অনেকটা বেপরোয়া স্বভাব ছিলো উল্লাসের। ক্লাস ফাঁকি দিয়ে বাইরে টইটই করা, আর এটাওটার ছবি তোলা চলতো সমানে। উল্লাসের মোবাইল ক্যামেরাটা ছিল দুর্দান্ত। সেটা দিয়েই চলতো ক্লিকবাজির এক্সপেরিমেন্ট। বন্ধুদের মধ্যে কিপ্টুস হিসেবে বিখ্যাত ছিলো ইশতিয়াক। একবার ওকে ভড়কে দিতে আমি, উল্লাস আর সৈকত একরাতে ওর বাসায় গিয়ে হাজির। ওদের বাড়িটা ছিলো দোতলা। আমাদেরকে দেখে ইশতিয়াক চুপসে গেল। আমরাও নাছোড়বান্দা, ঘরে ঢুকে ওর ল্যাপটপের সামনে বসে পড়লাম আর বললাম, আজকে তোদের বাসা থেকে রাতের খাবার খেয়ে তবেই যাবো। ওর চেহারাটা সেদিন দেখার মতো হয়েছিল। ওর রাজনীতি করার খুব শখ ছিলো। দেশের প্রধানমন্ত্রী হতে চাইতো।

 

বন্ধুদের মধ্যে সবুজ ছিল শখের র‍্যাপার। র‍্যাপ সং লিখতো আর সে গান নিজেই গাইত। একবার তো একটা র‍্যাপ সং এর সিডি বের করেছিল ওর এক বন্ধুর সাথে মিলে। বেশ মোটাগোটা ছিল সবুজ। পরে তো ছয় মাস ধরে দিনে মাত্র দুইটা করে রুটি খেয়ে থেকে শরীর কমিয়ে একদম ফিট হয়ে গিয়েছিল। এখন ইনস্টাগ্রামের সেইরকম পোজ মেরে মেরে ছবি দেয়।

 

সৈকত থাকতো সাহেববাজার মোল্লা ছাত্রাবাসে। সাহেব বাজারের সবচেয়ে নামকরা মেস এটা। এ মেসের ছাদ থেকে পদ্মা নদীর চর বহুদূর পর্যন্ত দেখা যেত। সৈকতের ছিলো বডি বিল্ডিং এর প্রতি ঝোঁক। একবার আমি আর সৈকত রাজশাহী কলেজের জিমে ভর্তি হয়েছিলাম। তবে মাসখানিকের বেশি কন্টিনিউ করতে পারিনি। খুব ঘরকুনো স্বভাবের হলেও সৈকতকে আমার ভীষণ ভালো লাগত। প্রচুর মুভি দেখতো ও। আর ভালো মুভি হলে আমাকে সাজেস্ট করতো। আমি পেনড্রাইভ দিলে পেনড্রাইভ বোঝাই করে মুভি দিত।

 

মুভির কথা মনে পড়তেই আসিফের কথা মনে পড়ল। ওকে আমরা ডাকতাম ‘চারণ আসিফ’ বা ‘চারণ কবি’ বলে, যদিও কোনোদিন আসিফ একটাও কবিতা লিখেছে বলে শুনিনি। ওর কাছে ছিলো অ্যাডাল্ট মুভির ভান্ডার। আর এর অন্যতম খরিদ্দার ছিলো নসিব। ওর পুরো নাম নবিউল ইসলাম নসিব, কিন্তু ভার্সিটিতে সে নিজের নাম ‘নীল’ বলে চালু করতে লাগল। যদিও আমরা বন্ধুরা ওকে নসিব বলেই ডাকতাম। ওর বাড়ি ছিলো পুঠিয়াতে। রাত জেগে ইয়ে মুভি দেখতো আর কলা খেত। ওর খাটের নিচে ডজন ডজন কলা রাখা থাকতো।

 

আমাদের কারো প্রক্সির দরকার হলে আমরা আসিফকে বলতাম। আসিফ ক্লাসে প্রক্সি দেয়াটাকে শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গেছে। পার প্রক্সি পাঁচ টাকা করে নিত। একেক ক্লাসে ছয়টা/সাতটা করে প্রক্সি দিত। এছাড়া রুটিন করা ছিলো যে কে কোন ক্লাস করবে আর কোনটা প্রক্সি দিতে হবে। প্রক্সিতে মেয়েরাও কম যেত না। প্রক্সি দিয়ে মাথা নিচু করে বেঞ্চের নিচ দিয়ে দিয়ে পেছনের দরজা দিয়ে বেরিয়ে যেতে হতো। আহা, সেসব অভিজ্ঞতা অন্যরকম।

 

ভার্সিটি লাইফের সেরা বিনোদন ছিলো ক্লাস করা। একেক টিচার একেক কিসিমের। প্রত্যেকেরই কোনো না কোনো ইউনিক বৈশিষ্ট্য ছিলো। মাঝে মাঝে তো আমাদের বিরক্তির লেভেল এমন হয়ে যেত যে, রাগে দুঃখে নিজের মাথার চুল নিজেই ছিড়তাম। যাহোক, টিচারদের নিয়ে দু’একটা কথা লেখা যাক –

 

 

শহীদুর রহমান স্যার  

 

খুব সিনিয়র টিচার। টেবিলে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে থেকে, দাঁত চিবিয়ে চিবিয়ে পড়াতেন। আর কেন জানিনা যে কোনো টেক্সট পড়াতে গিয়ে উনি ‘সুপারন্যাচারাল’ বিষয়ে চলে যেতেন। সময়জ্ঞান বলতে কিছু উনার মধ্যে কখনো দেখিনি। ক্লাস শেষ হয়ে গেছে কিন্তু উনি পড়িয়েই যাচ্ছেন। আমরা বেঞ্চে পা দিয়ে বাড়ি দিয়ে, কখনোবা মুখ দিয়ে চি চি শব্দ করে উনাকে বোঝানোর চেষ্টা করছি যে ক্লাস শেষ; কিন্তু কে শোনে কার কথা! উনি পড়িয়েই চলেছেন। বহুবার এমন হয়েছে যে উনাকে থামানোর জন্য আমাদের কাউকে না কাউকে উঠে বলতে হয়েছে যে স্যার ক্লাসের সময় শেষ। তবে মানুষ হিসেবে তিনি অতুলনীয়। ছাত্রছাত্রীদের কথা মন দিয়ে শুনতেন যে কোনো বিষয়ে।

 

 

আর কে এস স্যার

 

পুরো নাম রেজাউল করিম সিদ্দিকী। সবাই উনাকে আরকেএস স্যার বলেই ডাকতো। বাইরে থেকে দেখলে স্যারকে কখনোই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক বলে মনে হতো না। এতোটাই সাধারণ কাপড় চোপড় পরতেন। ক্লাসে এসেই টেবিলের উপর উঠে পা ঝুলিয়ে বসতেন। প্রত্যেকটা টেক্সট লাইন-বাই-লাইন পড়াতেন। বোঝাতেন। টেক্সট এর পাশাপাশি জীবন সম্পর্কে অনেক কথা বলতেন। কথা বলার সময় যখন খুব গভীরে চলে যেতেন, তখন চোখ বন্ধ করে, ঘাড় বাঁকা করে, কানের পাশের হাত দিয়ে চুলকাতে চুলকাতে বলতেন ‘বাবারে… বাবারে …’। উনি ছাত্রছাত্রীদেরকে নিজের ছেলেমেয়ের মতোই মনে করতেন। একদম টাইমলি ক্লাসে আসতেন। তবে আমাদের জন্য সকাল ৮টার ক্লাস এটেন্ড করাটা খুব সমস্যার ছিলো। তাই সকালে উনার ক্লাস থাকলে খুব একটা করা হতো না। ক্লাসের বাইরে স্যার নানা ধরণের সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড নিয়ে মেতে থাকতেন। শিক্ষার্থীদের নিয়ে নানা অনুষ্ঠান করতেন ক্যাম্পাসে। নিজে ভালো সেতার বাজাতেন। তার একটা হ্যান্ডিক্যাম ছিলো, সেটা দিয়ে সবাইকে ভিডিও করে রাখতেন। একবার ক্যাম্পাসের এলামনাই অনুষ্ঠানে উনার ক্যামেরা দিয়ে আমাকেই পুরো অনুষ্ঠান ভিডিও করে দিতে হয়েছিল। তারপর কোনো অনুষ্ঠান হলে আমাকে ফোন দিতেন ভিডিও করে দেয়ার জন্য। আমি স্যারের পাগলামি দেখে খুব যে খুশি হতাম তা না। বরং বিরক্ত লাগতো। একবার হয়েছে কি, উনি মাস্টার্সের ক্লাস নিচ্ছেন। লাস্ট ক্লাস ছিল সেটা। আমাকে ডেকে নিয়ে গেলেন সেই ক্লাসে। ঘটনা হলো, উনার এই ক্লাস নেয়াটা ভিডিও করে দিতে হবে। স্যার সত্যিই খুব আন্তরিক আর সাদা মনের মানুষ ছিলেন। আমাকে উনি পেনড্রাইভে করে অনেক পুরোনো কিছু মুভি দিয়েছিলেন। তার মধ্যে ‘গল্প হলেও সত্যি’ মুভিটা এখনো মাঝে মধ্যে দেখি।

 

 

আতর আলী স্যার

 

‘ফুলস এন্ড ইডিয়টস উইল নেভার লার্ন’ – প্রত্যেক ক্লাসেই আমাদেরকে এই মহান বাণী শুনতে হতো। অনেক সিনিয়র আর বয়স্ক টিচার হওয়াতে উনার কথা ঠিকমতো বোঝা যেত না। আর মজার ব্যাপার হলো উনার চোখ সামান্য ট্যারা ছিলো। তাই কার দিকে তাকিয়ে কথা বলছেন সেটা বের করা আমাদের পক্ষে ছিল অসম্ভব কাজ। সবসময় ভয়ে ভয়ে থাকতাম এই বুঝি দাঁড় করালো। আর একবার দাঁড় করালে অপমানের একশেষ। ইডিয়ট, ফুল, ইত্যাদি বলে স্যার একেবারে প্রেস্টিজের বারোটা বাজিয়ে তবেই ক্ষান্ত হবেন। উনার সবচেয়ে রাগ ছিলো লাস্ট বেঞ্চের প্রতি। উনি বলতেন – ‘লাস্ট বেঞ্চ, ইউ ইডিয়টস, প্লিজ স্ট্যান্ড আপ’। তারপর এক এক করে সবকটাকে ক্লাসের বাইরে পাঠিয়ে দিতেন। স্যারের ক্লাসে হাসি ঠেকিয়ে রাখাটাও ছিলো মহামুশকিলের। কারণ কিছুক্ষণ পর পর উনি নিজেই কিছু একটা পড়ে হাসতে হাসতে কেঁপে কেঁপে উঠতেন। আমরাও কিছু না বুঝে তাল দিতাম।

 

 

শেহনাজ ইয়াসমিন ম্যাডাম

 

ম্যাডামের উপর এতই ক্ষোভ ছিলো যে ভাবতাম, ভার্সিটি ছেড়ে যাওয়ার পর ম্যাডামের ঠিকানায় আবর্জনা ভরা বাক্স পাঠাবো। কোনোদিনও উনি ঠিক সময়ে ক্লাসে আসছেন বলে আমার মনে পড়ে না। কিন্তু ক্লাসে আসলে যে ভাব নিতেন, তাতে করে মেজাজ খারাপ হয়ে যেত আমাদের। ক্লাস টেস্টগুলোও ঠিকঠাকমতো নিতেন না। বারবার ক্লাসের টাইম চেঞ্জ করতেন। আজকে এই কাজে ব্যস্ত, তো অন্যদিন আবার আরেক কাজে, আবার আরেকদিন দেশের বাইরে। উফ, কি যে বিরক্ত হতাম ম্যাডামের ক্লাস থাকলে।

 

 

তরিকুল ইসলাম স্যার

 

তরিকুল ইসলাম স্যার আরেক কাঠি সরেস। আলতু ফালতু কথা বলে ক্লাসের টাইম কিল করতে ওস্তাদ। অথচ উনি যদি একটু সুন্দর করে আমাদের পড়াতেন, তাহলে সবাই কতো কিছুই না শিখতে পারতো তার কাছ থেকে। উনার ছিলো প্রচণ্ড ইন-ডেপথ নলেজ। কিন্তু ক্লাসে এসেই কে টেক্সট এনেছে কে আনে নাই, কেন আনে নাই, কি সমস্যা, এটা সেটা ফালতু বকবক করে সময় কাটাতেন। কোনো কোনো দিন একটা শব্দ নিয়ে বকবক করতে করতেই ক্লাসের টাইম কাবার। সবাই প্রচণ্ড বিরক্ত হতো। আর এজন্য উনার ক্লাসে উপস্থিতিও থাকতো সবচেয়ে কম।

 

 

আবদুল্লাহ আল মামুন স্যার

 

মামুন স্যারের ক্লাস সবাই পছন্দ করতো। শুধু ক্লাস নয়, স্যারের ক্লাস নেয়ার সিস্টেমটাই ছিলো অনন্য। স্যারের ব্যক্তিত্বে মুগ্ধ হয়নি এমন কাউকে বোধহয় ইংলিশ ডিপার্টমেন্টে খুঁজে পাওয়া যাবে  না। যদিও উনি যে সবসময় টেক্সট ভালোভাবে বুঝিয়ে দিতেন তেমন না। তবে উনি অনেকগুলো দরজা খুলে দিতেন। এছাড়া উনার সবচেয়ে পছন্দের টপিক মার্ক্সিজম, রিলিজিয়ন, ফ্রয়েড ইত্যাদি নিয়ে নিয়মিত আলোচনা করতেন। মাঝে মাঝে বাংলা কবিতাও চলে আসতো। আমরা ভীষণ উপভোগ করতাম মামুন স্যারের ক্লাস। কেউ খুব ঝামেলায় না পড়লে স্যারের ক্লাস মিস করতো না। শ্রদ্ধা ও ভয় দুটোই কাজ করতো তার প্রতি।

 

 

অসীম স্যার

 

অসীম স্যার আমাদের কাছে একজন লিজেন্ড। নামের মতোই অসীম জ্ঞানের অধিকারী। উনি ক্লাস নিতে আসতেন দুপুরের পরে। এজন্য মাঝে মধ্যেই আমরা ক্লাস ফাঁকি দিতাম। তবে উনি খুব ভালো পড়াতেন। খুব আন্তরিক থাকতেন ক্লাসে। যদিও ফিলসফি যা পড়াতেন, তা আমাদের মাথার দুই তিন হাত উপর দিয়েই যেত। তবুও স্যারকে আমরা সবাই খুব পছন্দ করতাম। প্রচণ্ড মেধাবী এই স্যারের জীবনের প্রতিও আমাদের একটা কৌতূহল ছিল।

 

 

এছাড়া আরও অনেক শিক্ষকের কাছ থেকে আমরা বহুকিছু শিখেছি। কাউকে খুব ভালো লেগেছে, তো কাউকে আবার একদম পছন্দ হতো না। ক্লাস করতে করতে ঘুম এসে যেত। এইসব টকঝালমিষ্টি মিলিয়েই চলে গেছে দিনকাল।

 

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের অনেক অনেক স্মৃতি, সেসব আবার অন্য কোনোদিন হবে। ক্লাস, টুকিটাকি চত্তরে খাওয়া, আমতলায় আড্ডা, বন্ধুত্ব, খুনসুটি, ছোট্ট ঘরে একুরিয়াম আর পাখির সাথে বসবাস, বছরখানিক থিয়েটার করা, বছর বছর মেস বদলানো, মুড়ি পার্টি, বট-পরোটা, পদ্মার চর – এটাওটা সব মিলিয়ে আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের সময়টা সত্যিই এক রূপকথা হয়ে আছে।

 

 

২০১১ সালের কিছু ছবি 

 

সৈকত ও আমি। সৈকত আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বন্ধু।

 

 

ইশতিয়াক, জাহাঙ্গীর, সবুজ, আমি, প্লাবন, নসিব, এবং পেছনে হা করে আছে নিপুন

 

 

লাইব্রেরীর সামনের গাছে আমরা ঝোলাঝুলি খেলছি

 

 

ঝোলাঝুলি করতে করতে ইশতিয়াকের ভূ-তলে পতন

 

 

কদমফুল হাতে ভাব মারতে যেয়ে বন্ধুদের কাছে গনধোলাই খেলাম

 

 

কদমফুল মাথায় আমি ও উল্লাস

 

 

পাগলা নিপুন প্লাবনকে মারার চেষ্টা করছে

 

 

ফকিরা উল্লাস ১০০ টাকা ধার শোধ করছে

 

 

পোলাপাইনরে যে কি বুঝাইতেছিলাম আল্লাই জানে!

 

 

সৈকত ও ইশতিয়াক ফুল ছেঁড়ার চেষ্টা করায় আমি বাঁধা দিচ্ছি

 

 

আমরা সারাবছর বাঁদরামি করে পরীক্ষার আগে বই কিনলাম গ্রুপস্টাডি করার জন্য

 

 

পরীক্ষার সিলেবাস দেখে মাথা নষ্ট !

 

 

পরীক্ষা পাশ করার জন্য ক্লাস করতেছি

 

 

আরকেএস স্যার ক্লাস নিচ্ছেন

 

 

এতো ক্লাস করেও কিছু মাথায় ঢুকলো না!

 

 

নিপুন আর উল্লাসও হতাশ!

 

 

আমার ও সৈকতের মধ্যে মুভি আদান-প্রদান বিষয়ক চুক্তি হচ্ছে

 

 

নদীর পাড়ে এরা দুজন কার যেন গোসল করা দেখতেছে

 

 

শিশুদের সাথে সময় কাটাচ্ছেন মহান মামুন ভাই

 

 

মনের উপর চাপ কমাতে আমরা ভ্রমণে বের হয়েছি

 

 

ভ্রমণের এক পর্যায়ে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হলো

 

 

উদোম-গা ফটোসেশন

 

 

তিনজনে আসছিলাম গ্রুপ স্টাডি করতে। তার মধ্যে আমি ছাড়া বাকি দুজনের অবস্থা এই।

 

 

নসিব ওরফে নীলের সাথে উল্লাস

 

 

ঘেটি মামুন ও ঘেটি উল্লাস

 

 

ডিফিকাল্ট ফটোগ্রাফি !

 

 

সৈকত আমার বিছানা দখল করায় ওকে শাস্তি দিচ্ছি

 

 

ঐত্তোরি একশ্যান!

 

 

এই কেউ তাকিও না !

 

 

উল্লিবাবা ধ্যানে মগ্ন

 

 

সবগুলো একা কেমনে খাবে, সৈকত এটাই চিন্তা করতেছে

 

 

এক গামলা ভাত সাবার করার মিশনে ব্যস্ত জাহাঙ্গীর ও ইশতিয়াক

 

 

ইনডোর মুড়ি পার্টি

 

 

ল্যাপটপ চলানোর ডগি-স্টাইল

 

 

ডিফিক্যাল্ট ফটোগ্রাফি এগেইন!

 

 

শহীদুর রহমান স্যারের সুপারন্যাচারাল বক্তৃতা

 

 

সারাবছর ফাইজলামি করাতে সবগুলা পরীক্ষায় ফেল

 

 

রাকিব, আমি, আরিফ, সৈকত ও আলম

 

Leave a Reply